EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

হারিয়ে যাওয়া গ্যালাক্সির সন্ধান মিলল মিল্কিওয়ের ভেতরেই, নাম ‘লোকি’

বিরল নক্ষত্রগুচ্ছ বিশ্লেষণে মিল্কিওয়ের শৈশবের রহস্য উন্মোচন; প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে নতুন গবেষণা

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

হারিয়ে যাওয়া গ্যালাক্সির সন্ধান মিলল মিল্কিওয়ের ভেতরেই, নাম ‘লোকি’

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মহাবিশ্বের ইতিহাস অনেকটাই গ্রাস করার ইতিহাস। কোটি কোটি বছর ধরে ছোট গ্যালাক্সিকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে বড় হয়েছে বৃহৎ গ্যালাক্সিগুলো। সেই দীর্ঘ মহাজাগতিক ইতিহাসের নতুন এক প্রমাণ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

তাদের দাবি, প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে আরেকটি ক্ষুদ্র গ্যালাক্সিকে গ্রাস করেছিল। নর্স পুরাণের ধূর্ত দেবতার নামে সেই হারিয়ে যাওয়া গ্যালাক্সির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লোকি’।

এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে।

গবেষকদের মতে, এ আবিষ্কার মিল্কিওয়ের জন্ম ও বিবর্তন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের গবেষক ড. ফেদেরিকো সেস্তিতো ও তার দল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ‘গাইয়া’ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মিল্কিওয়ের ডিস্ক অঞ্চলের কাছে ২০টি অস্বাভাবিক নক্ষত্র খুঁজে পান। নক্ষত্রগুলো সাধারণ নক্ষত্রের চেয়ে আলাদা— এগুলোতে ভারী মৌলের পরিমাণ অত্যন্ত কম।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় ‘মেটাল-পুওর স্টার’, যা সাধারণত মহাবিশ্বের প্রথম যুগের নক্ষত্র বলে বিবেচিত হয়।

হাওয়াইয়ের মাউনাকেয়া পর্বতের কাছে অবস্থিত কানাডা-ফ্রান্স-হাওয়াই টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পেকট্রোগ্রাফ দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব নক্ষত্রের রাসায়নিক গঠন প্রায় একই। এর মানে এগুলোর উৎপত্তি একই উৎস থেকে। বয়স আনুমানিক ১০ বিলিয়ন বছরেরও বেশি।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি। ২০টির মধ্যে ১১টি নক্ষত্র গ্যালাকটিক ডিস্কের ঘূর্ণনের একই দিকে ঘুরছে, আর বাকি ৯টি ঘুরছে একদম উল্টো দিকে। একই উৎস থেকে আসা নক্ষত্রের এমন বিপরীতমুখী গতি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

গবেষকদের ব্যাখ্যা, বহু প্রাচীন এক সংঘর্ষের সময় মিল্কিওয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ও দুর্বল ছিল। ফলে গ্রাস করা গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলো বিভিন্ন দিকে ছিটকে পড়ে যায়। কসমোলজিক্যাল সিমুলেশন অনুযায়ী বিগ ব্যাংয়ের তিন থেকে চার বিলিয়ন বছরের মধ্যেই এ ধরনের সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের অধ্যাপক ড. কারা ব্যাটারসবি বলেন, ভারী মৌল-স্বল্প এই নক্ষত্রগুলো মহাবিশ্বের প্রথম যুগের নক্ষত্র গঠনের ইতিহাস নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে মহাবিশ্বের ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলে মনে করেন।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের ড. হ্যান্স-ভালটার রিক্স বলেন, রাসায়নিক ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সব নক্ষত্রই একসময় একটি ক্ষুদ্র গ্যালাক্সির অংশ ছিল, যা পরে মিল্কিওয়ের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমাদের মিল্কিওয়ের ভেতরে হয়তো এখনো লুকিয়ে আছে বহু হারিয়ে যাওয়া গ্যালাক্সির চিহ্ন। যাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে কোটি কোটি বছর আগে, কিন্তু তাদের নক্ষত্রগুলো আজও জ্বলছে আকাশে।

আরও পড়ুন