EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ট্রেন, বাস না লঞ্চ— ঈদে কোন যানে স্বস্তি বেশি?

গন্তব্য, বাজেট আর পরিবার বুঝে বেছে নিন আপনার ঈদযাত্রার বাহন

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

ট্রেন, বাস না লঞ্চ— ঈদে কোন যানে স্বস্তি বেশি?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ঈদুল আজহা মানেই ঘরে ফেরার তাড়া। শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর এই যাত্রা যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়- ট্রেনে যাব, নাকি বাসে? লঞ্চই বা কেমন? কোনটায় আরাম বেশি, কোনটায় খরচ কম, আর কোনটাই বা নিরাপদ?

ট্রেন: আরামের রাজা, টিকিটের যন্ত্রণা

ঈদযাত্রায় ট্রেনকে অনেকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন। কারণটা সহজ- ট্রেনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম, যাত্রা আরামদায়ক এবং নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।

ট্রেনে যাত্রার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আসনে বসে পুরো রাস্তা আরামে যাওয়া যায়। শিশু বা বয়স্কদের জন্য ট্রেন সবচেয়ে নিরাপদ। রাস্তার যানজট নেই, তাই নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো যায়। ট্রেনে খাবার গাড়ি, শৌচাগার সব সুবিধাই থাকে।

ঈদের আগে ট্রেনের টিকিট পাওয়া রীতিমতো যুদ্ধ। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার মুহূর্তে ওয়েবসাইট অনেক সময় বিকল হয়ে যায়। কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। এ ছাড়া সব গন্তব্যে ট্রেন সংযোগ নেই।

বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ট্রেন সেরা। যারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী বা খুলনায় যাবেন তারা ট্রেনকে প্রাধান্য দিতে পারেন। টিকিট আগেভাগে কাটুন। রেলওয়ের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।

বাস: সহজলভ্য কিন্তু যানজটের ভোগান্তি

বাসে যাওয়া সবচেয়ে সহজ- যেকোনো সময় টার্মিনালে গিয়ে টিকিট কাটা যায়। দেশের প্রায় সব গন্তব্যে বাস সংযোগ রয়েছে।

বাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজলভ্যতা। এসি ও নন-এসি দুই ধরনের বাসে খরচের তারতম্য অনেক। বিভিন্ন বাজেটের যাত্রীরা পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাস পৌঁছে যায়।

ঈদের সময় মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট থাকে। ঢাকা থেকে বের হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। স্বাভাবিক সময়ে ৪ ঘণ্টার পথ ঈদে ৭-৮ ঘণ্টায়ও শেষ হয় না। এ ছাড়া ঈদের সময় বাস দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায়, যা উদ্বেগের বিষয়।

যারা বাজেটে যেতে চান এবং ট্রেন বা লঞ্চ সংযোগ নেই এমন গন্তব্যে যাবেন, তাদের জন্য বাস ছাড়া বিকল্প নেই। রাতের বাসে গেলে যানজট কম থাকে। নামকরা পরিবহন কোম্পানির বাস বেছে নিন।

লঞ্চ: আনন্দময় যাত্রা, তবে সবার জন্য নয়

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের কাছে লঞ্চ যাত্রা এক আলাদা অভিজ্ঞতা। নদীর বুক চিরে ভেসে চলা, শীতল বাতাস আর খোলা আকাশ- লঞ্চযাত্রার রোমান্টিকতা অন্যরকম।

লঞ্চে কেবিনে ঘুমিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তাই রাতের যাত্রা আরামদায়ক। ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের গন্তব্যে লঞ্চ সুবিধাজনক। ভাড়াও তুলনামূলক কম।

লঞ্চে ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নদীতে আবহাওয়া খারাপ হলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। যাদের নদীপথে অস্বস্তি বা মোশন সিকনেস আছে তাদের জন্য লঞ্চ কষ্টের হতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য লঞ্চ আদর্শ। রাতের কেবিনে ঘুমিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সহজ ও আরামদায়ক।

অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চে উঠবেন না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যাত্রা করুন।

গন্তব্য, বাজেট ও পরিবারের সদস্যদের কথা মাথায় রেখে যানবাহন বেছে নিন। পরিবারে শিশু বা বয়স্ক থাকলে ট্রেন সেরা। দক্ষিণাঞ্চলে যাচ্ছেন, তাহলে লঞ্চই আরামদায়ক। আর ট্রেন বা লঞ্চ সংযোগ না থাকলে বাসই ভরসা।

যেভাবেই যান, নিরাপদে যান। ঈদের আনন্দ যেন পথেই শেষ না হয়।

আরও পড়ুন