বাঙালির ইফতার মুড়ি ছাড়া কি জমে?
দস্তরখান কিংবা ডাইনিং টেবিল, ইফতারের আয়োজনে যত শাহি পদই থাকুক না কেন, এক বাটি মুড়ি না হলে যেন বাঙালির ইফতার পূর্ণতা পায় না।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
বাঙালির ইফতার মানেই মচমচে মুড়ি মাখা। পিয়াজু, বেগুনি আর ছোলার সাথে মুড়ির এই মেলবন্ধন ছাড়া ইফতারের পূর্ণতা যেন অপূর্ণই থেকে যায়। ছবি: কবির হোসেন
রমজানের বিকেলে রাজধানীর আকাশ যখন ইফতারের অপেক্ষায় লাল হতে শুরু করে, তখন প্রতিটি বাঙালি ঘরে একটি চিরচেনা শব্দ শোনা যায়- মচমচে মুড়ি মাখানোর শব্দ। দস্তরখান কিংবা ডাইনিং টেবিল, ইফতারের আয়োজনে যত শাহি পদই থাকুক না কেন, এক বাটি মুড়ি না হলে যেন বাঙালির ইফতার পূর্ণতা পায় না।
বাঙালির ইফতার সংস্কৃতিতে মুড়ি কেবল একটি খাদ্য উপাদান নয়, বরং এটি একটি আবেগের নাম। পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ আর ঝাল-ছোলা- সবকিছুর মূল সমন্বয়ক এই মুড়ি। ঘিয়ে ভাজা ডাল কিংবা সরিষার তেলের ঝাঁঝালো ঘ্রাণে যখন মুড়ি মাখানো হয়, তখন সেই সুবাস মুহূর্তেই ভোজনরসিকদের ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
সারাদিন রোজা রাখার পর পেট শান্ত রাখতে মুড়ির বিকল্প কমই আছে। পুষ্টিবিদদের মতে, মুড়ি একটি লো-ক্যালরি খাবার যা দ্রুত হজম হয় এবং শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভাজাপোড়া খাবারের তৈলাক্ত ভাব শুষে নিতে মুড়ি বেশ কার্যকর। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে মুড়ি যেন হয় ইউরিয়ামুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ভাজা।

অঞ্চলভেদে মুড়ি মাখানোর ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা। পুরান ঢাকায় ইফতারে মুড়ির সাথে ‘বড়ো বাপের পোলায় খায়’ বা শাহি ঘিলু-কাবাবের মিশ্রণ বেশ জনপ্রিয়। আবার গ্রামবাংলার সাধারণ ঘরে শসা, টমেটো, ধনেপাতা আর কাঁচা মরিচের ফালি দিয়ে মাখানো মুড়িই অমৃত। অনেকে আবার মিষ্টি স্বাদের জন্য মুড়ির সাথে জিলাপি মিশিয়ে খেতেও পছন্দ করেন।
আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, রমজানের শুরুর দিন। রাজধানীর বাজারে বেড়েছে মুড়ির ব্যাপক চাহিদা। হাতে ভাজা লালচে মুড়ি থেকে শুরু করে মেশিনে ভাজা ধবধবে সাদা মুড়ি- সবই বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। ভালো মানের হাতে ভাজা মুড়ির দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে থাকলেও সাধারণ প্যাকেটজাত মুড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৯০ টাকায়।
ইফতারের টেবিলে কত শত আধুনিক খাবার আসুক না কেন, মুড়ির সেই আদি ও অকৃত্রিম স্থান দখল করা অসম্ভব। এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি তৃপ্তিদায়ক। এক বাটি মুড়ি মাখা আর এক গ্লাস শরবত- এই দিয়েই যেন বাঙালির ইফতারের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।