আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিনেতা দিনো মোরিয়াকে গ্রেপ্তার
বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দিনোকে হেফাজতে নেয় ইওডব্লিউ
ডেইলি সান রিপোর্ট, বিনোদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মুম্বাইয়ের মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কার প্রকল্পে কথিত আর্থিক অনিয়মের মামলায় বলিউড অভিনেতা দিনো মোরিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওডব্লিউ)।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দিনোকে হেফাজতে নেয় ইওডব্লিউ। মিঠি নদীর পলি অপসারণের বিভিন্ন চুক্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, দরপত্রে কারসাজি, অতিরিক্ত খরচ দেখানো এবং ভুয়া বিল তৈরির মাধ্যমে বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার (বিএমসি) প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি হয়েছে। কাজের চুক্তি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, অর্থ কোথায় গেছে এবং এই অনিয়মে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে ইওডব্লিউ।
মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কেতন কদমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তে দিনো মোরিয়ার নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনকলের রেকর্ডে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে দিনোর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এ ঘটনায় দিনো ও তার ভাই সান্তিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইওডব্লিউ।
সান্তিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইউবিও রাইডজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কেতন কদমের পরিবারের ব্যবসায়িক যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কেতন ও সান্তিনোর মধ্যে কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল এবং নদীর পলি অপসারণের কাজ থেকে পাওয়া অর্থের কোনো অংশ ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় কেতন কদম ও জয়েশ জোশীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে দরপত্রের শর্ত সাজানো এবং পলি পরিবহনের নামে ভুয়া বিল তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পলি অপসারণের যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। কেরালার কোচিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে দরপত্রের শর্ত তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের ওই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্র ব্যবহার করতে হতো। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে এসব যন্ত্র ভাড়া দেওয়া হতো বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।
এ ছাড়া নদী থেকে কতটুকু পলি সরানো হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কত টাকা বিল দেওয়া হয়েছে, সেই হিসাবও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। মিঠি নদীর প্রায় ১৭ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার অংশের পলি অপসারণের কাজে অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের আগস্টে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে ইওডব্লিউ।
এদিকে মুম্বাই পুলিশের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগেও দিনো মোরিয়ার বিষয়ে তদন্ত করছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০২৫ সালের ৬ জুন দিনোর বান্দ্রার বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় সংস্থাটি। একই সময়ে মুম্বাই ও কেরালার কোচিতে তার ভাই, পৌরসভার কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশির পর দিনো ও সান্তিনোকে বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য তলব করে ইডি। ওই বছরের ১২ জুন মুম্বাইয়ে সংস্থাটির দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন দিনো। মুম্বাই পুলিশের করা মামলার ভিত্তিতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে তদন্ত শুরু করে ইডি।
২০০৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় মুম্বাইয়ের পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ এই নদীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শুরু হয় তদন্ত।
তবে দিনো মোরিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং এই মামলায় তার ঠিক কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে ইওডব্লিউ।