EN ☀️
×

Follow Us

বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছাল

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছাল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান শাহর পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান।

মামলাটিতে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

এরপর গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা অফিস আদেশ জারি করেন। পরে ওই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

যেভাবে হত্যা মামলা হয়

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় তাঁর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন