EN ☀️
×

Follow Us

বিনোদন

গেম অব থ্রোনস-কে পেছনে ফেলে একুশ শতকের সেরা সিরিজ কোনটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

গেম অব থ্রোনস-কে পেছনে ফেলে একুশ শতকের সেরা সিরিজ কোনটি

নিউইয়র্ক টাইমসের একুশ শতকের সেরা সিরিজের তালিকায় শীর্ষে থাকা ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর একটি দৃশ্য। ছবি: আইএমডিবি

অ অ

কারও প্রিয় সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’, কারও তা দেখাই হয়নি। প্রচারের এক যুগ পরও সিরিজটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব যেন আরও বেড়েছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস একুশ শতকের সেরা ১০০ টিভি সিরিজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে ভিন্স গিলিগানের তৈরি ‘ব্রেকিং ব্যাড’।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য-বিশ্লেষণভিত্তিক বিভাগ ‘দ্য আপশট’-এর সঙ্গে মিলে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। টেলিভিশন অঙ্গনের পাঁচ শতাধিক পেশাজীবীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়, প্রত্যেককে বলা হয় একুশ শতকের সেরা সর্বোচ্চ ১০টি সিরিজ বেছে নিতে। শর্ত ছিল, সিরিজের প্রথম পর্ব প্রচারিত হতে হবে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে। ভাষা বা দেশের কোনো বাধা ছিল না, আর একাধিক পর্ব থাকা যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানও (ড্রামা, কমেডি, তথ্যচিত্র, রিয়েলিটি শো ইত্যাদি) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

শুধু ভোট গুনে তালিকা তৈরি হয়নি। ভোটারদের দুটি করে এলোমেলো সিরিজের মধ্যে কোনটি বেশি পছন্দ, তা-ও জিজ্ঞাসা করা হয়। ভোট ও এই তুলনার তথ্য মিলিয়ে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত তালিকা। সব মিলিয়ে ৫১৬ জন ভোটারের পছন্দ থেকে এসেছে এই ফলাফল।

কেন শীর্ষে ‘ব্রেকিং ব্যাড’

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর গল্প একজন সাধারণ রসায়ন শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইটকে ঘিরে। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মাদক তৈরির জগতে পা রাখেন তিনি। ২০০৮ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়া পাঁচ মৌসুমের এই সিরিজে দেখা যায়, একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে অপরাধজগতের ক্ষমতাবান চরিত্রে বদলে যান। ওয়াল্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন, তাঁর ছাত্র জেসি পিংকম্যানের চরিত্রে অ্যারন পল।

শুরুতে দর্শক ওয়াল্টারের প্রতি সহানুভূতি বোধ করেন। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সহানুভূতির জায়গা নেয় অস্বস্তি, কারণ ওয়াল্টার নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করতে শুরু করেন। সিরিজটির চরিত্র সল গুডম্যানকে নিয়ে তৈরি ‘বেটার কল সল’ও তালিকায় জায়গা পেয়েছে, রয়েছে ২৭ নম্বরে।

তালিকায় কোনো নির্দিষ্ট ভাষার বাধ্যবাধকতা ছিল না। তাই কোরিয়ান সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ (৭২ নম্বর), ফরাসি সিরিজ ‘দ্য ব্যুরো’ (৫৪ নম্বর), জাপানি সিরিজ ‘শোগুন’ (৮৬ নম্বর) এবং আইরিশ-ব্রিটিশ প্রযোজনা ‘নরমাল পিপল’-ও জায়গা পেয়েছে তালিকায়।

শীর্ষ ১০-এ ড্রামা-কমেডির ভারসাম্য

শীর্ষ দশে ড্রামা ও কমেডির সংখ্যা সমান, পাঁচটি করে। ড্রামার মধ্যে আছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’, ‘দ্য ওয়্যার’, ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’ ও ‘গেম অব থ্রোনস’। কমেডির মধ্যে আছে ‘ফ্লিব্যাগ’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’।

দুই নম্বরে থাকা ‘দ্য ওয়্যার’ বাল্টিমোর শহরের অপরাধ ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তৈরি, পুলিশ থেকে রাজনীতি পর্যন্ত অনেক কিছুই উঠে এসেছে এতে। তিন নম্বরে ‘ম্যাড মেন’, ষাটের দশকের নিউইয়র্কের বিজ্ঞাপনজগৎ নিয়ে তৈরি, কেন্দ্রীয় চরিত্র ডন ড্রেপার। চার নম্বরে থাকা ‘সাকসেশন’ একটি মিডিয়া সাম্রাজ্যের মালিক পরিবারের ক্ষমতার লড়াইয়ের গল্প। পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রিটিশ সিরিজ ‘ফ্লিব্যাগ’ মাত্র দুই মৌসুমেই জায়গা করে নিয়েছে তালিকায়।

সাম্প্রতিক সময়ের সিরিজও তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘অ্যাডোলেসেন্স’ রয়েছে ৪০ নম্বরে, একই বছরের ‘দ্য পিট’ ৩৬ নম্বরে, আর ২০২৪ সালের ‘বেবি রেইনডিয়ার’ রয়েছে ৮৯ নম্বরে। তালিকা অনুযায়ী, ২০০০-০৯ সালে প্রথম প্রচারিত সিরিজ আছে ৩২টি, ২০১০-১৯ সালের সিরিজ ৪৫টি এবং ২০২০ সালের পর শুরু হওয়া সিরিজ ২৩টি।

নিউইয়র্ক টাইমসের সেরা ১০০ সিরিজ

তালিকার শুরুর দিকে আছে ব্রেকিং ব্যাড, দ্য ওয়্যার, ম্যাড মেন, সাকসেশন, ফ্লিব্যাগ, গেম অব থ্রোনস, ভিপ, ৩০ রক, কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম ও আটলান্টা। এরপর জায়গা পেয়েছে দ্য অফিস (যুক্তরাষ্ট্র), অ্যারেস্টেড ডেভেলপমেন্ট, গার্লস, ফ্রাইডে নাইট লাইটস, সিক্স ফিট আন্ডার, দ্য অফিস (যুক্তরাজ্য), দ্য আমেরিকানস, আই মে ডেস্ট্রয় ইউ, চেরনোবিল ও দ্য ক্রাউন। বিশ থেকে ত্রিশের মধ্যে আছে দ্য হোয়াইট লোটাস, লস্ট, দ্য কামব্যাক, ডেডউড, দ্য লেফটওভারস, ব্ল্যাক মিরর, বেটার কল সল, ব্যান্ড অব ব্রাদার্স, কি অ্যান্ড পিল এবং সেভারেন্স।

তালিকার মাঝামাঝি অংশে আছে সারভাইভার, অ্যান্ডর, এনলাইটেন্ড, শিটস ক্রিক, ট্রু ডিটেকটিভ (প্রথম মৌসুম), দ্য পিট, ব্যাটলস্টার গ্যালাকটিকা, হোমল্যান্ড, ওয়াচমেন ও অ্যাডোলেসেন্স। এরপর রয়েছে লুই, হ্যাকস, পিকি ব্লাইন্ডার্স, বোজ্যাক হর্সম্যান, হ্যাপি ভ্যালি, ব্রড সিটি, টুইন পিকস: দ্য রিটার্ন, হাউস অব কার্ডস, নরমাল পিপল এবং পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন। পঞ্চাশের ঘরে আছে দ্য গুড প্লেস, ডাউনটন অ্যাবি, স্ট্রেঞ্জার থিংস, দ্য ব্যুরো, ইনসিকিউর, নাথান ফর ইউ, আই থিংক ইউ শুড লিভ, শ্যাপেলস শো, পেন১৫ এবং পিপ শো।

ষাটের ঘরে আছে রুপলস ড্র্যাগ রেস, স্লো হর্সেস, দ্য থিক অব ইট, অ্যান্থনি বোর্দেইন: পার্টস আননোন, মেয়ার অব ইস্টটাউন, দ্য রিহার্সাল, দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল, ওজার্ক, অ্যান্থনি বোর্দেইন: নো রিজারভেশনস এবং দ্য শিল্ড। সত্তরের ঘরে রয়েছে বিফ (প্রথম মৌসুম), স্কুইড গেম, ব্যারি, দ্য বিয়ার, টেড ল্যাসো, সামবডি সামহয়ার, মডার্ন ফ্যামিলি, ইটস অলওয়েজ সানি ইন ফিলাডেলফিয়া, দ্য গুড ওয়াইফ এবং হাউ টু উইথ জন উইলসন।

আশির ঘরে আছে দ্য কুইন্স গ্যামবিট, বেটার থিংস, জাস্টিফায়েড, প্ল্যানেট আর্থ, দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ, শোগান, রিজারভেশন ডগস, ডেক্সটার, বেবি রেইনডিয়ার এবং ইস্টবাউন্ড অ্যান্ড ডাউন। তালিকার শেষ দশে আছে ক্যাটাস্ট্রফি, দ্য নাইট অব, স্টেশন ইলেভেন, দ্য ডিপ্লোম্যাট, হাউস, হল্ট অ্যান্ড ক্যাচ ফায়ার, কমিউনিটি, দ্য ওএ, গিলমোর গার্লস এবং একদম শেষে, ১০০ নম্বরে, স্ক্যান্ডাল।

আরও পড়ুন