EN ☀️
×

Follow Us

বিনোদন

অস্কারে জায়গা পেল থেজা রিওর সিনেমা ‘আং’

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ এএম

অস্কারে জায়গা পেল থেজা রিওর সিনেমা ‘আং’
অ অ

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (টিআইএফএফ) পুরস্কার জিতেছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘আং’। এবার এই সিনেমা ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগেও জায়গা পেয়েছে।

এটি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। তাঁর বয়স ৩১ বছর। ২০২১ সালে তিনি একই নামে একটি ছোট সিনেমা বানিয়েছিলেন। সেই সিনেমা ক্লেরমঁ-ফেরাঁ উৎসবে পুরস্কার পেয়েছিল। এবার তিনি সেই গল্পকেই বড় সিনেমা হিসেবে বানিয়েছেন।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম বিভাগে পাঁচজন বিচারক ছিলেন। তাঁরা ‘আং’কে সেরা বেছে নেন। সিনেমাটি পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার। বিচারকরা বলেন, সিনেমার নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার ধরন খুব ভালো। তাঁরা সিনেমার আবেগেরও প্রশংসা করেন।

থেজা রিওর জন্ম নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমায়। তিনি এই স্বীকৃতিতে খুব খুশি। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তিনি এই গল্প নিয়ে কাজ করেছেন। নিজের মতো করে গল্প বলার বিশ্বাস তিনি কখনো হারাননি। তিনি আরও বলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত। প্রথম সিনেমাতেই এমন সম্মান পাওয়া খুব কম দেখা যায়। তিনি নিজের এলাকা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে সিনেমাটি বানিয়েছেন।

সিনেমার গল্প

সিনেমার সময়কাল ষাটের দশক। জায়গাটি নাগাল্যান্ডের এক গভীর জঙ্গল। সেখানে আছে একটি ছোট কনিয়াক গ্রাম। এই গ্রাম ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে।

গ্রামের প্রধানের নাম আংবা। তিনি দেখেন, তাঁর গ্রামের মানুষ একে একে গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছে। কাছেই একটি আমেরিকান মিশন আছে। সেখানে মানুষ নতুন জীবন শুরু করছে। তারা পশ্চিমা পোশাক পরছে। তারা গির্জায় যাচ্ছে। তারা ইংরেজি শিখছে। তারা নতুন ভাষায় কথা বলছে।

পুরোনো গ্রামে থেকে যান শুধু তিনজন। তাঁরা হলেন আংবা, তাঁর অসুস্থ স্ত্রী এবং তাঁদের ছেলে আমাও। আমাও কথা বলতে পারে না। এই তিনজনই যেন পুরোনো সংস্কৃতির শেষ চিহ্ন। এই পরিবারের গল্প দিয়েই থেজা রিও তুলে ধরেছেন উপনিবেশ, ধর্ম এবং সংস্কৃতি বদলের ইতিহাস।

‘আং’ শুধু একটি সিনেমা নয়। এটি নাগা মানুষের নিজের কথা। এখানে একজন মানুষের কষ্ট মিশে গেছে একটি জাতির স্মৃতির সঙ্গে। সিনেমাটি বলে, ইতিহাস শুধু জয়ীদের নয়। সাধারণ মানুষের গল্পও সমান জরুরি।

থেজা রিও বলেন, নিজের ছোট এলাকা থেকে সিনেমাটি এত দূর পৌঁছানোয় তিনি আবেগে আপ্লুত। তিনি টিআইএফএফের বিচারকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভারতের সংস্কৃতি এবং নিজের জনগোষ্ঠীকে বড় মঞ্চে দেখাতে পারা তাঁর কাছে বড় অর্জন।

অস্কারের নতুন নিয়ম

সাধারণত প্রতিটি দেশ অস্কারে নিজের একটি সিনেমা পাঠায়। কিন্তু এবার নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা সিনেমা সরাসরি অস্কারে জায়গা পাচ্ছে। টিআইএফএফ এই ছয়টি উৎসবের একটি। তাই ‘আং’ সরাসরি অস্কারে জায়গা পেয়েছে।

ভারত থেকে আরেকটি সিনেমাও অস্কারের দৌড়ে আছে। এর নাম ‘গোন্ধল’। এটি একটি মারাঠি থ্রিলার সিনেমা। এটি বানিয়েছেন সন্তোষ দাভাখার। এই সিনেমা ২০২৫ সালে ভারতের আইএফএফআই উৎসবে সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল। ২০২৭ সালের অস্কারে তাই ভারতের দুটি সিনেমা নিয়েই আগ্রহ তৈরি হয়েছে—‘আং’ এবং ‘গোন্ধল’।

আরও পড়ুন