প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিখন ফল উন্নয়নের উদ্যোগ
প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ৩০ কোটি ডলারের অনুমোদন দিল বিশ্বব্যাংক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত দেশের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিখন ফল উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়ন মূলত বাংলাদেশ সরকারের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে বলে শনিবার (৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’(এলইএপি) প্রকল্পের অধীনে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের শ্রেণী অনুযায়ী পড়া, লেখা এবং গণিতের মতো মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় শতভাগ ভর্তির হার অর্জন করলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ বয়স-উপযুক্ত একটি সাধারণ পাঠ্য পড়তেও ও বুঝতে সক্ষম নয়।
উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় এই হার বেশ আশঙ্কাজনক হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘‘বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাসক্ষম জনবল গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। এবার এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে ধরে রাখতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতে তাদের ভালো কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি করবে।’’
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ, যেখানে সরকারি স্কুল, এনজিও স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসায় প্রায় ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছে। এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কাঠামোগত পাঠ পরিকল্পনা এবং উন্নত শিক্ষা উপকরণসহ একটি সুনির্দিষ্ট ‘ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি’ প্যাকেজ চালু করা হবে।
এ ছাড়া ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শক্তিশালী করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্প দলের নেতা তাশমিনা রহমান বলেন, ‘‘যাতে কোনো শিশু পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য এই প্রকল্প পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রতিকারমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। এটি স্বচ্ছ বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়তা করবে।’’
বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আরও ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
এই অর্থায়ন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের স্বল্প-আয়ের দেশগুলোর জন্য গঠিত তহবিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (আইডিএ) থেকে। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।