জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই নিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শুক্রবার গরু জবাই করে ভোজের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শুক্রবার গরু জবাই করে ভোজের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ১২ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে উন্মুক্ত মঞ্চ এলাকায় গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেন। এ নিয়ে হিন্দু শিক্ষার্থীদের একাংশ আপত্তি জানালে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তাঁদের অভিযোগ, মন্দিরের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে এ আয়োজন করা হয়েছে। তবে আয়োজক শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানান। আপত্তির পর তাঁরা রান্নার স্থানও কিছুটা সরিয়ে নেন।
মন্দির কমিটির সদস্যসচিব জয় সাহা বিবিসি বাংলাকে জানান, আপত্তির পর শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০ হাত দূরে সরে যান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনার পর ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন। জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয় উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি গণবিজ্ঞপ্তির কথাও এতে বলা হয়।
এর প্রতিবাদে শুক্রবার ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এ আয়োজনের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রাথমিকভাবে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝি মিটে গেলেও ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পশু জবাই না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে সবার অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার রয়েছে। তবে কোনো আয়োজনের কারণে অন্য কোনো আয়োজন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, চাঁদা তুলে তাঁরা একটি গরু কিনেছেন। বাংলাদেশ ছাত্র মজলিসের পক্ষ থেকেও আরেকটি গরু দেওয়ার কথা রয়েছে। কলা ভবনের কাছের মাঠসংলগ্ন এলাকায় গরু জবাইয়ের পরিকল্পনা তাঁদের; মন্দিরের সামনে নয়।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম আরিফ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিবাদী কর্মসূচি হিসেবে আয়োজনটি করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, শুক্রবার গরু জবাই করা হলে তা মর্যাদাপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ধর্মীয় বিরোধের সৃষ্টি না হয়।
এদিকে জয় সাহা বলেন, মন্দিরের সামনে না হলে বা মন্দিরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটলে ক্যাম্পাসে গরু জবাই নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই।
সূত্র: বিবিসি বাংলা