EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

ব্যানার সরানো নিয়ে কবি নজরুল কলেজের ইলেকট্রিশিয়ানকে মারধরের অভিযোগ

কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন দাস ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আজাদ তাকে কলেজের গেট থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে কিল, ঘুষি ও বাঁশ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

ব্যানার সরানো নিয়ে কবি নজরুল কলেজের ইলেকট্রিশিয়ানকে মারধরের অভিযোগ

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

কবি নজরুল সরকারি কলেজের সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান আমান উল্লাহ আমানকে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের নেতৃত্বে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আমানের দাবি, কলেজের ভেতরে একটি ব্যানার সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নিয়ে কিল-ঘুষি ও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসের নতুন ভবনের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় আমান উল্লাহকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়। ওই দিন কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ‘উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টার’-এর একটি ব্যানার টাঙানো হয়। বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষের নজরে এলে তিনি আমান উল্লাহসহ কয়েকজন কর্মচারীকে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

পরে অধ্যক্ষের নির্দেশে কর্মচারীরা ব্যানারটি সরাতে গেলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা আমান উল্লাহকে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। এ সময় রোমান তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আমান।

আমান উল্লাহর অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন দাস ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আজাদ তাকে কলেজের গেট থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে কিল, ঘুষি ও বাঁশ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী আমান উল্লাহ আমান বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন কলেজের ভেতরে ‘উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টার’-এর ব্যানার লাগানো হলে অধ্যক্ষ স্যার আমাদের কয়েকজনকে সেটি সরাতে পাঠান। স্যারের নির্দেশে কয়েকবার সেখানে গেলে ছাত্রদলের রোমান ভাই আমাকে ফোনে বলেন, ‘ব্যানারের বিষয়ে তোর এখানে প্রয়োজন নেই, তুই এখান থেকে যা। তোকে যদি মারি, প্রিন্সিপাল স্যার কি আটকাবে?


তিনি আরও বলেন, ঘটনার দুই দিন পর ছাত্রদলের সুজন ভাই আমাকে ফোন করে গেটের সামনে ডেকে নিয়ে যান। পরে আমাকে থাপ্পড় মেরে টেনে-হেঁচড়ে নতুন ভবনের পাশে নিয়ে যান। সেখানে রোমান ভাই উপস্থিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে সুজন, আজাদসহ চারজন মিলে আমাকে মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রোমান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ প্রকাশিত হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। আমান আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আমানের ওপর হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাকে চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে এসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন