তরুণরাই দেশের রক্তসংকট মেটাতে পারে: ঢাবি উপাচার্য
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ তরুণ। এই তরুণদের নিয়মিত রক্তদানে দেশের রক্তসংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তরুণেরা যদি বছরে অন্তত একবার রক্ত দেন, তাহলে দেশে কখনো রক্তের সংকট হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইডিইবি ভবনে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে অন্তত ৩, ১০, ২৫ ও ৫০ বার রক্ত দিয়েছেন—এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন প্রধান অতিথি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, রক্তদাতা সম্মাননার এই আয়োজন নতুন বাংলাদেশ গড়ার নতুন ভাবনার একটি বিশেষ উপলক্ষ। দেশের সার্বিক রক্তচাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছা রক্তদাতারাই মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথপ্রদর্শক।
দেশপ্রেম শুধু আবেগ বা স্লোগানের বিষয় নয় উল্লেখ করে এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নিজের কাজ সততার সঙ্গে করা এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ৫১ বারের প্লাটিনাম রক্তদাতা কাজী হাসান আলী ও ২৬ বারের গোল্ডেন রক্তদাতা রেজেকা সুলতানা। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা মাসুমা হোসেন তন্নীও তার অনুভূতি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম. রেজাউল হাসান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক ডোনারের পুল নিয়ে কোয়ান্টাম ল্যাব ২০০০ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৮ লক্ষাধিক মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত ও রক্ত উপাদান দিয়ে সহায়তা করেছে।
কোয়ান্টাম ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বা তার বেশি বার রক্ত দিয়েছেন এমন প্লাটিনাম দাতা রয়েছেন ১৯৬ জন। ২৫ থেকে ৪৯ বার রক্ত দিয়েছেন ৩ হাজার ১৩৮ জন গোল্ডেন ডোনার। ১০ থেকে ২৪ বার রক্ত দিয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩ জন সিলভার ডোনার। আর অন্তত তিনবার রক্ত দিয়েছেন এমন লাইফ লং ডোনারের সংখ্যা ৫৮ হাজারের বেশি।
অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সব স্বেচ্ছা রক্তদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের রক্তের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণদের স্বেচ্ছা রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আয়োজকেরা।