ইবিতে শিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ, আহত ২
ডেইলি সান রিপোর্ট, ইবি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের করিডোরে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী হলেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলিনূর রহমান। আর থাপ্পড়ের শিকার শিবির নেতা দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আলিনূর রহমান তাকে থাপ্পড় দেন। তবে কী কারণে তাকে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে আনতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।
আলোচনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে আনতে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেন—এমন অভিযোগ করে আলোচনাস্থল থেকে বের হয়ে যান ছাত্রদলের নেতারা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছি।
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছি। তারপরও আমরা আমাদের অবস্থান এখানে রেখেছি, যাতে পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়।