EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

এবার এসএসসিতে বগুড়ার ৯ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

এবার এসএসসিতে বগুড়ার ৯ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
অ অ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বগুড়া জেলার ফলাফল ছিল সাফল্য ও হতাশার মিশ্র চিত্র। জেলার স্বনামধন্য পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

তবে জেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এমন ফলাফলে কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে বগুড়া জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ ডেইলি সানকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসা। শিবগঞ্জ উপজেলার রয়েছে বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদ্রাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীও পাস করেনি।

এ ছাড়া ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার শূন্য। সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদ্রাসার ফলও একই।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের কর্মদক্ষতার অভাব ও গাফিলতিসহ বিভিন্ন কারণে এমন ফল হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য তাঁরা অনেক চেষ্টা করেছেন। তাঁর ৫০ বছরের কর্মজীবনে এমন ফলাফল কখনো হয়নি। এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসার সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে এমন ফল হতে পারে।

ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করেনি। তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহও ছিল। শিক্ষকেরাও তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেননি।

এ প্রতিষ্ঠান থেকে সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে কলেজ ভবনের ঢালাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় অধ্যক্ষ তখনো ইন্টারনেটে ফলাফল দেখতে পারেননি।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার ডেইলি সানকে বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, তা চিহ্নিত করতে হবে। এ কাজে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতা নেওয়া হবে।

সালমা আক্তার আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন