জুলাইয়ের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের আলোকবর্তিকা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য
ডেইলি সান রিপোর্ট, গাজীপুর
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেরণার উৎস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন আলোকবর্তিকা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের সূচনা করেছে। শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখা জাতীয় দায়িত্ব।
সম্প্রতি নেপালের কাঠমন্ডুতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ দূতাবাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অধ্যাপক আমানুল্লাহর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি তাঁকে আন্দোলনের অন্যতম মূল থিংক-ট্যাংক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
গোলাম সারওয়ার বলেন, আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে আমানুল্লাহর কৌশল, সাহসী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা মানুষকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি গণমাধ্যমের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও আমানুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে টেলিভিশন টকশোতে কথা বলার মতো লোক যখন পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তিনি স্পষ্ট ও নির্ভীকভাবে কথা বলেছেন।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে আমানুল্লাহ বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প।
শহীদ পরিবারের পাশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৮ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবারের শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অধিভুক্ত কলেজের অসচ্ছল, প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫’ চালু করা হয়েছে।
শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের কথাও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে শহীদ শিক্ষার্থীদের নামফলকসহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। অধিভুক্ত দেশের সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগার, আবাসিক হল ও প্রধান ভবন শহীদদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও চিকিৎসকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক, নারীদের সাহসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে বিশ্বের অনেক গণঅভ্যুত্থান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তাই জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল করতে মতপার্থক্য ভুলে সমতা প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক উৎসব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও চলছে।
কর্মসংস্থানের উপযোগী করে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজানোর কথাও বলেন তিনি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদনির্ভর শিক্ষায় আটকে না রেখে তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষাগত দক্ষতা, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো দক্ষতাভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাঠমন্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।