শাবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদ রুদ্রের নামে স্কলারশিপ ঘোষণা
ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া, পুরস্কার বিতরণ, বিভাগভিত্তিক ফিস্ট এবং ক্যাম্পাসজুড়ে আলোকসজ্জার পাশাপাশি শহীদ রুদ্র সেনের নামে একটি স্মারক স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার গ্যালারি কক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। এরপর পতাকা চত্বরসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে প্রশাসনিক ভবন-১ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে প্রতিটি বিভাগে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএ) দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
এ সময় উপাচার্য শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ বৃত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিবছর ১৮ জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের শাহাদাতবার্ষিকীতে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া শহীদ রুদ্র সেনের নামে নামকরণ করা লেকের উন্নয়ন, স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাঈল হোসেন। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্তমান শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিভাগভিত্তিক বিশেষ ভোজ (ফিস্ট) আয়োজন করা হয়। আগে এ আয়োজন শুধু আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের আয়োজনে অংশ নেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।