EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

এনটিআরসিএ নিয়োগ: আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আল-আমিন বিন আলী

আল-আমিন বিন আলী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

এনটিআরসিএ নিয়োগ: আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
অ অ

এনটিআরসিএ। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার ইচ্ছা যাদের আছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

এনটিআরসিএ কী, কবে এবং কেন গঠন করা হয়?

এনটিআরসিএ-এর পূর্ণরূপ হলো নন-গভর্নমেন্ট টিচার্স রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি। বাংলায় যার অর্থ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

২০০৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠার আগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দিত, যার কারণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠত। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নির্বাচন করতে এনটিআরসিএ গঠন করা হয়। বর্তমানে এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এনটিআরসিএর অধীনে কী কী নিয়োগ হয়?

এনটিআরসিএ মূলত দেশের এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার- যেখানে সরকার বেতনের মূল অংশ দেয়) এবং নন-এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে। এর অধীনে প্রধানত ৩টি স্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্কুল পর্যায় (মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক): সহকারী শিক্ষক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান ইত্যাদি), সহকারী মৌলভী ও প্রদর্শক।

স্কুল পর্যায়-২ (কারিগরি ও মাদ্রাসা): জুনিয়র মৌলভি, জুনিয়র শিক্ষক এবং ইবতেদায়ী প্রধান বা ইবতেদায়ী ক্বারি।

কলেজ পর্যায় (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক): প্রভাষক, বিভিন্ন বিষয়ের ইন্সট্রাক্টর এবং লাইব্রেরিয়ান।

৩. এনটিআরসিএ-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন?

এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়াও বেশ প্রতিযোগিতামূলক এবং এটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। আগে শুধু সনদ দেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে এনটিআরসিএ সরাসরি মেধা তালিকা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: ১. নিবন্ধন পরীক্ষা এবং ২. গণবিজ্ঞপ্তি (আবেদন ও সুপারিশ)।

ধাপ ১: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা

একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিবন্ধন পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়:

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (১০০ নম্বর): বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হয়। পাস নম্বর সাধারণত ৪০%।

লিখিত পরীক্ষা (১০০ নম্বর): প্রিলিমিনারিতে পাস প্রার্থীরা নিজ নিজ চয়ন করা বিষয়ের ওপর লিখিত পরীক্ষা দেন।

মৌখিক পরীক্ষা (২০ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ফলাফল ও মেধা তালিকা: লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ওপর ভিত্তি করে একটি মেধা তালিকা তৈরি করা হয় এবং প্রার্থীদের নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়।

ধাপ ২: গণবিজ্ঞপ্তি ও চূড়ান্ত সুপারিশ

সনদ পাওয়ার মানেই সরাসরি চাকরি নয়। শূন্য পদের সাপেক্ষে এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

আবেদন: নিবন্ধন সনদধারী প্রার্থীরা শূন্য পদের বিপরীতে অনলাইনে তাদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেন। একজন প্রার্থী অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারেন।

মেধাভিত্তিক নির্বাচন: সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীর মেধা তালিকা এবং তার পছন্দের ক্রমানুসারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত নিয়োগ: প্রাথমিক নির্বাচনের পর ভিআর (পুলিশ ভেরিফিকেশন) ফরম পূরণ করা হয়। ভেরিফিকেশন ইতিবাচক হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করে।

বছরে কতজন নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ?

এনটিআরসিএ প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যক লোক নিয়োগ দেয় না; বরং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের চাহিদা পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ বা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষার মান বাড়াতে এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে এনটিআরসিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হাজার হাজার শিক্ষিত ও যোগ্য বেকার যুবকদের জন্য এটি মেধার জোরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শিক্ষকতার পেশায় আসার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম এটি।

আরও পড়ুন