২ কোটি টাকার সংস্কারকাজে বিলম্ব, খেলার মাঠে মাছ ছেড়ে ডাকসুর প্রতিবাদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাবি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
খেলার মাঠে মাছ ছেড়ে ডাকসুর প্রতিবাদ: ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ২ কোটি টাকার কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মাঠে জমে থাকা পানিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ মাছ অবমুক্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ডাকসুর সদস্য এবং বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে। ফলে বছরের পর বছর মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা, অনুশীলন ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশাসন প্রায়ই বাজেট সংকটের কথা বললেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে পৌঁছানোর পরও সংস্কারকাজে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো জলাবদ্ধ মাঠে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন প্রশাসন বাজেট সংকটের কথা জানালেও পরে ডাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে মাঠ সংস্কারের জন্য দুই কোটি টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়।
তার দাবি, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বরাদ্দের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তহবিলে জমা হলেও প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। সময়মতো কাজ শুরু হলে চলতি বর্ষায় মাঠে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদ জানাতেই প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে জমে থাকা পানিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত মাঠ সংস্কার, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান।