মাভাবিপ্রবিতে কারবালার শিক্ষা নিয়ে সেমিনার
ডেইলি সান রিপোর্ট, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র মহররম ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ‘কারবালার শিক্ষা: ন্যায়, ত্যাগ ও মানবতা’ শীর্ষক সেমিনার, ডিজিটাল কনটেন্ট ও কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) তৃতীয় একাডেমিক ভবনের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে কারবালার চেতনা ধারণ এবং ন্যায়, সত্য, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেইন।
তিনি বলেন, কারবালার ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়; এটি সত্য, ন্যায়, আত্মত্যাগ ও মানবমুক্তির অনন্য শিক্ষা। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কারবালার আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি তরুণদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের আদর্শ ধারণ করে সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মো. ইমতিয়াজ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ হাদিফুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাভাবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার এম. এ. আজান সোবহানী আল ভাসানী।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘কারবালা থেকে গাজা: জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীনতা’ বিষয়ক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিযোগিতা এবং ‘কারবালা থেকে গাজা: ইতিহাস ও মূল্যবোধ’ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া শর্ট ভিডিও (রিল/শর্ট ফিল্ম), প্রেজেন্টেশন, ইনফোগ্রাফিক ও ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে নগদ অর্থ, সনদপত্র এবং ইসলামী বইসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।