ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাবি
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা এবং ভারতে পালিয়ে থাকা অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, “দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিশু মৃত্যু কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো সংকট দেখা দিলেই সরকার হাদী হত্যার বিচার প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসে।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার রূপরেখা ঘোষণার দাবিতে গত সপ্তাহে সরকারকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সরকার কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা বা পরিকল্পনা জানায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
সরকার দ্রুত এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার না করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারাও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের শনাক্ত করা, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পর পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি আহত হন।
পরে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার বাদীর আপত্তির পর ১৫ জানুয়ারি আদালত ওই অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। এখনো সিআইডি মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।