লাখ টাকা চাঁদাবাজি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃতরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠু
ডেইলি সান রিপোর্ট, ববি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে মাছের পোনাবাহী ট্রাক আটকে এক লাখ টাকা চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও চালককে মারধরের অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ।
বহিষ্কৃতরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠু।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সাথে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে ভোর ৪টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা রেনু পোনা বহনকারী একটি গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলারোড এলাকায় রেখে চালক ও মালিককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায়। সেখানে তাদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং এক লাখ টাকা আদায় করা হয়।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া এই চাঁদার টাকা বিকাশের মাধ্যমে এনে পরদিন সকালে মিয়া বাবুল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সিসহ চারজন মিলে বিভিন্ন দোকান থেকে ক্যাশ আউট করে নিয়ে যান।
ফার্মেসি ও বিকাশ দোকানি লোকমান বলেন, ‘বুধবার সকাল ৯টার দিকে মিয়া বাবুল আমাকে কল দিয়ে বলেন—‘মামা, আপনার নাম্বারে টাকা পাঠাইছি। আমার এক বন্ধু অসুস্থ, টাকাটা জরুরি লাগবে।’ পরবর্তীতে আমি নাম্বার মিলিয়ে তাকে ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা ক্যাশ বুঝিয়ে দিই।’
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাতেও একই মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং চালককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে মিঞা বাবুল বলেন, ‘আমাকে এখানে ফাঁসানো হচ্ছে ভাই। খায় সবাই মিলে কিন্তু নাম হয় শুধু আমার, এরসাথে এলাকার কিছু লোকও জড়িত আছে। আমি দ্রুত সাংবাদিকদের মাধ্যমে মূলহোতাদের নাম সামনে নিয়ে আসব।’
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের চাঁদাবাজির বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন মহলও এটি জানে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। উপযুক্ত প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরতে পারলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’