EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

দাহ্য বনায়ন নাকি অসচেতনতা—কেন বারবার জ্বলছে শাবিপ্রবির টিলা?

ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

দাহ্য বনায়ন নাকি অসচেতনতা—কেন বারবার জ্বলছে শাবিপ্রবির টিলা?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন টিলায় সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘অস্ট্রেলিয়া টিলা’তে পরপর দুবার আগুন লাগার ঘটনা আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগে গত বছর ‘নিউজিল্যান্ড টিলা’তেও আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতি বছরই ৪ থেকে ৫ বার টিলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাসের টিলাগুলো শিক্ষার্থীদের অবসর যাপনের জনপ্রিয় স্থান। দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী সেখানে সময় কাটাতে যান। তাদের ফেলে দেওয়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখক ও প্রকৃতি বিষয়ক সাংবাদিক হোসেন সোহেল বলেন, “ভ্রমণের নামে টিলায় আগুন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। কারা এসব করছে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এখনই সচেতনতা ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কর্মকর্তা অধ্যাপক আবুল হাসনাত বলেন, দেশের বড় বনাঞ্চলগুলোতে নিয়মিত অগ্নিকাণ্ডের খবর না মিললেও শাবিপ্রবির টিলায় প্রতিবছর একাধিকবার আগুন লাগে। তাঁর ভাষ্য, টিলাগুলোর অধিকাংশ গাছ আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস প্রজাতির, যেগুলোর পাতা অত্যন্ত দাহ্য। ঝরে পড়া শুকনো পাতা প্রখর রোদে দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সামান্য আগুনের সংস্পর্শ পেলেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ আগুন লাগার অন্যতম কারণ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আবুল হাসনাত আরও বলেন, আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাসের মতো দাহ্য গাছের একমুখী বনায়ন থেকে বেরিয়ে এসে পরিবেশবান্ধব ও দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি নীতিমালায়ও এ ধরনের গাছ নিরুৎসাহিত বা সীমিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সচেতনতা বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং পরিকল্পিত বনায়ন ছাড়া এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড রোধ করা কঠিন হবে।

আরও পড়ুন