EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

তিন দফা স্থগিতের পর আজ জকসু নির্বাচন

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা, সরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ এএম

তিন দফা স্থগিতের পর আজ জকসু নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আজ মঙ্গলবার। তবে তিনবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেছেন অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী। সার্বিক পরিস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ও সতর্কতা। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এর আগে ২৭ নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর জকসুর ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা ছিল।

নির্বাচনে ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন।

নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তিনটি প্যানেল। শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘রোকেয়া পর্ষদ’।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন পর্যন্ত জকসুর ভিপি, এজিএসসহ বিভিন্ন পদ থেকে নানা কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছে আট স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীকে শেষবার নির্বাচন পেছানোর পর আর প্রচারে দেখা যায়নি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ভিপি পদে পাঁচজন, এজিএস, ক্রীড়া এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে একজন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। জকসু নির্বাচনের ভিপি পদে ১২ প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রকাশ্যে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলকে সমর্থন দিয়েছেন।

এদিকে তিনবার স্থগিতের পর আজ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিব বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা জকসু নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করেছে, তা এখন নেই বললেই চলে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। 

ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস প্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল বলেন, এক সময় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলী বলেন, আজকের মধ্যেই ভোট গ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জকসু নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর করতে প্রস্তুত প্রশাসন। ওএমআর মেশিনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জগন্নাথ কলেজ থাকাকালে সর্বশেষ শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন আইনি কাঠামোর অভাবে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন হয়নি।

গত বছরের ২ জানুয়ারি জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদন পায়। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করে এবং ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে।

২৭ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। চূড়ান্ত বিধিমালা অনুমোদনের পর ৫ নভেম্বর তফশিল ঘোষণা করা হয়। এতে ২২ নভেম্বর ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হয়।

পরে ভূমিকম্প আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্যানেলের দাবির মুখে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ৪ ডিসেম্বর সংশোধিত তফশিল ঘোষণা করে ভোটের নতুন তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

তবে নির্ধারিত দিনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলে ভোটের দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। একই দিন নির্বাচন কমিশন নতুন করে ৬ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন