মানবপাচার প্রতিরোধে ‘ভুক্তভোগী-বান্ধব’ আইনজীবী গড়ার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১১ পিএম
মানবপাচার প্রতিরোধে দেশে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে আইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক, ট্রমা-সচেতন এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, মৌলিক আইনগত জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের জন্য অপরিহার্য, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন জোরদারে সহায়ক হবে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের এ কে খান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে ‘এডুকেটিং ফর জাস্টিস: এমপাওয়ারিং ল’ গ্র্যাজুয়েটস টু ফাইট হিউম্যান ট্রাফিকিং’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
আলোচনায় মানবপাচারবিরোধী আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে শোষণের মতো নতুন প্রবণতার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং আইন পেশাজীবীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং আইওএমের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে রেফারেন্স বই হস্তান্তর করা হয়।
সেমিনারের শেষে আইন অনুষদের সেমিনার হলে আইওএমের সহায়তায় এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)-এর অর্থায়নে আইটি সরঞ্জামসহ একটি বুক কর্নার উদ্বোধন করা হয়, যা মানবপাচার বিরোধী বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. জাফর উল্লাহ তালুকদার এবং আইওএমের হেড অব প্রোটেকশন পূজা ভাল্লা একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও বিচার খাতের অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এ.বি.এম. আবু নোমান মানবপাচার বিষয়ক আইনকে স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার, ফৌজদারি বিচার এবং মানবপাচার প্রতিরোধে পেশাগত পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি আরও সক্ষম ও ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জাতীয় বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখবে।