সিটি গ্রুপকে ঋণ দিতে আইন শিথিল বাংলাদেশ ব্যাংকের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
খেলাপি ঋণগ্রহীতা হলেও দেশের শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ক(৩) ধারার প্রয়োগ সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণত এ ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সিটি গ্রুপের যে পাঁচ প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলো হলো সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি মূলধন জোগাতে সিন্ডিকেট ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। অন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। প্রয়োজনে আরও ব্যাংক এ ঋণে যুক্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি অন্য খেলাপি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ কোনো ছাড় নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, এ ঋণের দায় সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না। ঋণের জন্য কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা চাওয়া যাবে না। ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়মুক্ত সম্পদ বন্ধক হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। ঋণে কেনা পণ্য বিক্রির অর্থ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে এবং সেখান থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের ৪৩টি ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব ঋণ ইতোমধ্যে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে।
তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও গ্রুপটির মুনাফা ও বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রুপটির নিট মুনাফা ছিল ৯৪৬ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।
সিটি গ্রুপের দাবি, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে লবণ, সিমেন্ট, চিনি, এলপিজি, কাগজ ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকারদের কেউ কেউ বলছেন, গ্রুপটির সংকটের কারণগুলো আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
