অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উদ্বেগ
নতুন ঋণের অপব্যবহার ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ এএম
দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাত থেকে নতুন করে বিতরণ করা ঋণের অর্থ প্রকৃত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং তা উৎপাদনশীল খাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না- তা নিয়ে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘‘নতুন করে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা যে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার নিশ্চয়তা কোথায়? অতীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও তছরুপ করা হয়েছিল, এখন যে পর্দার আড়ালে তেমনটি ঘটছে না, সেই গ্যারান্টি কে দেবে?’’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে আয়োজিত ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রশ্নগুলো তোলেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের ব্যাংকিং খাতের অতীত গৌরব স্মরণ করে বলেন, ‘‘একসময় বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু লাগামহীন খেলাপি ঋণের সংস্কৃতির কারণেই এই খাতে আজকের এই গভীর সংকটের সূত্রপাত।’’
বর্তমানে ভঙ্গুর ব্যাংক খাতকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন ধরনের নীতিগত ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘এই নতুন ঋণের অর্থ যদি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে আবারও কোনো অসাধু চক্রকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়, তবে অতীতের সেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়েরই পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’’
দেশের ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক চিত্র তুলে ধরে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সংস্কারের ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের আগের খারাপ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এর বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।’’
তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। অতীতে প্রতিটি সরকারই বিভিন্ন নীতিগত সুযোগ-সুবিধা বা ক্ষমার নামে এসব সরকারি ব্যাংককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করার পথ তৈরি করে দিয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘এই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ক্রনিক সমস্যা কেবল বাংলাদেশ ব্যাংক একা সমাধান করতে পারবে না। এর জন্য সরকারকে শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’’
আর্থিক ও করপোরেট খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে নৈতিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘‘করপোরেট ও ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা- সবার মধ্যে একটি ন্যূনতম পেশাদার নৈতিকতা থাকতে হবে। খাত সংস্কারে কাগজে-কলমে যত কঠোর আইনই থাকুক না কেন, নৈতিকতার অভাব থাকলে কোনো দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব নয়।’’