ডিজিটাল রূপান্তরে টিসিবি, বছরে সাশ্রয় ৮০ কোটি টাকা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড এবং সরাসরি ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এসব উদ্যোগের ফলে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগী শনাক্তকরণে ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে ‘ট্রেড উইথ টিসিবি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ও বিআইডিএস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. বদরুন নেসা আহমেদ।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে টিসিবি। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭৯ লাখ ৯০ হাজার প্রকৃত সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সক্রিয় করা হয়েছে প্রায় ৭৩ লাখ ৭ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড। ই-কেওয়াইসি ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
টিসিবির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, আধুনিক ডিজিটাল ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব গুদাম থেকে সরাসরি ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ডিলারদের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ সংগ্রহে ৬০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব গুদাম ব্যবস্থাপনায় ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণের সুদ ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সুদ ব্যয় ছিল ৫৩৩ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ১০৬ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮ হাজার কোটি টাকার ক্রয় পরিকল্পনায় পণ্য সংগ্রহের ব্যয় কমানো এবং বিক্রয় রাজস্ব ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীপ্রতি ভর্তুকির পরিমাণ ১৭ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সাবান, ডিটারজেন্ট, লবণ, চা, আটা ও মসলার মতো পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকির ব্যয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকসেবা সহজ করতে ‘উপকারী’ (Upokari) স্মার্ট অ্যাপ চালু করেছে টিসিবি। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্য ও পণ্য পাওয়ার বিজ্ঞপ্তি পেতে পারবেন। এনক্রিপ্ট করা কিউআর কোড ব্যবহার করে অনলাইনে বা নগদ অর্থে পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কার্ড হারিয়ে গেলেও অ্যাপের মাধ্যমে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ জানানো ও সেবা পেতে চালু রয়েছে হটলাইন ০৯৬৩৮ ১১১ ৮৮৮ এবং ২৪ ঘণ্টার হোয়াটসঅ্যাপ সেবা।
দরপত্র ও পণ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় শতভাগ ই-জিপি ব্যবহারের পাশাপাশি দরপত্র উন্মুক্তকরণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামানত ও বিল পরিশোধের ব্যবস্থার কথা জানানো হয় অনুষ্ঠানে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক বাজারদর পর্যবেক্ষণ এবং নিজস্ব গুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে টিসিবিকে আরও স্বনির্ভর ও ভর্তুকিনির্ভরতা থেকে বের করে আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।