মূল্যস্ফীতি কমানো ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য, আজ নতুন মুদ্রানীতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ বুধবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এ মুদ্রানীতি বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটানো এবং ব্যাংকঋণের প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি রয়েছে ৫ শতাংশের নিচে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল সর্বনিম্ন। চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে অনাগ্রহের কারণে অর্থ কাঙ্ক্ষিত হারে উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না। বিশেষ করে শিল্প, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে নতুন ঋণের চাহিদা কম রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই ছিল এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এরপরও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়াতে পারেনি।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নীতিগত সমন্বয় করতে মুদ্রানীতি আরও ঘন ঘন পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
-6ab52aaef0f9e.jpg)