EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

বন্ধ কারখানার নামে ৫ কোটি টাকার ফোন আমদানি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

বন্ধ কারখানার নামে ৫ কোটি টাকার ফোন আমদানি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে নিট ফ্যাব্রিক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালান থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর জব্দ করা ওই চালানটি চট্টগ্রাম ইপিজেডের থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আমদানি করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি এক বছরেরও বেশি সময় আগে বন্ধ হয়ে গেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইপিজেডের অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে আগে ইস্যু করা আমদানি অনুমতিপত্রের (আইপি) কাগজপত্র জাল করে চালানটি আনা হয়ে থাকতে পারে। ওই আইপিগুলোর অধীনে আগেই পণ্য আমদানি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ৩১ আগস্ট হংকং থেকে হংকং এয়ার কার্গোর একটি ফ্লাইটে ৮৯৫ কেজি ওজনের চালানটি ঢাকায় আসে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি, কাপড়ের রোলের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি সিলিন্ডারে মোবাইল ফোনগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেটের (সিআইআইডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চালানটিতে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং ১ হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও চীনা ব্র্যান্ডের ফোন ছিল। এসব ফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

নথিপত্রে চালানটির প্রেরক হিসেবে ঝেজিয়াং শাওজিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানি, মাস্টার এয়ারওয়েবিল হোল্ডার হিসেবে জানকো গ্লোবাল লজিস্টিকস এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার হিসেবে এফএফ কার্গো সার্ভিসের নাম রয়েছে।

এ ঘটনায় ঢাকা কাস্টমস হাউস থিয়ানিস অ্যাপারেলস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ইউকে ডোরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে চালানটি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এফএফ কার্গো সার্ভিসকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, থিয়ানিস অ্যাপারেলস ২০২৫ সালের মে মাসে বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানটির আইপিও বাতিল করা হয়। পরে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির ইজারা বাতিল করে সম্পদ নিলামে তোলে এবং কারখানার ভবন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেয়।

তিনি বলেন, থিয়ানিস অ্যাপারেলসের আর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বন্ড সুবিধার আওতায় নতুন করে পণ্য আমদানির সুযোগও প্রতিষ্ঠানটির ছিল না।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখেছে, অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা পুরোনো দুটি আইপি জাল করে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে চালানটি আনা হয়েছে। ওই আইপিগুলোর অধীনে আগেই পণ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো আমদানি-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ডে যাদের প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের কেউ কেউ চালানটি আনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ইউকে ডোরিনের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে।

চালানের নথিপত্রে দেখা যায়, ইউকে ডোরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ থিয়ানিসের একটি লেটারহেড ব্যবহার করে চালানটি খালাসের অনুমোদন দেন। পরে তিনি পণ্যগুলো সংগ্রহের জন্য রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেন। ওই অনুমোদনপত্রে তানভীরকে থিয়ানিসের কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

তবে তানভীর দাবি করেন, ইলিয়াস নামের থিয়ানিসের এক কর্মকর্তা তাঁর কর্মীকে চালানটি খালাসের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

থিয়ানিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, ইলিয়াস ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থিয়ানিস আর কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি বলেও জানান তিনি।

আনিসুর রহমান খান চালানটির সঙ্গে থিয়ানিসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, থিয়ানিসের কোনো কর্মকর্তা ইউকে ডোরিনকে চালান খালাসের কোনো নথি দেননি। আইপি বাতিল হওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে ইউকে ডোরিনও থিয়ানিসের বিমান কার্গো খালাসের কাজ করেনি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এফএফ কার্গো সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সিআইআইডি কর্মকর্তারা জানান, চালান থেকে কত টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফোনগুলোর মডেল, অবস্থা, আইএমইআই নম্বর, আমদানির নথিতে উল্লেখ করা মূল্য ও বাজারদর যাচাই করে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

এনবিআরের মুখপাত্র আল আমিন জানান, জাল আইপি নথিপত্র ব্যবহার ও চোরাচালানের অভিযোগে ঢাকা কাস্টমস হাউস বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করা হয়।

এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পুরোনো আইপি ও থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নথিপত্র কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কে চালানটি আনার ব্যবস্থা করেছিল এবং কীভাবে ফোনগুলো দেশের বাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

আরও পড়ুন