অর্থনৈতিক সংকটেও তিন মাসে কোটিপতি বেড়েছে ৫,০৭৭
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় জুন প্রান্তিকে এক কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ থাকা ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি।
তবে ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ থাকা মানেই হিসাবধারী ব্যক্তি কোটিপতি—এমনটি নয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব হিসাবে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ থাকতে পারে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংক হিসাবও থাকতে পারে।
এদিকে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণও বেড়েছে। মার্চ শেষে কোটি টাকার হিসাবগুলোতে জমা অর্থের স্থিতি ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, বাংলাদেশে সম্পদ ও আয়বৈষম্য অনেক বেশি। এই বৈষম্য কমাতে প্রগতিশীল করনীতি প্রয়োজন হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, কর ও ভ্যাট ফাঁকির কারণেও কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। দেশে পরোক্ষ কর আদায় বাড়লেও সে তুলনায় প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়েনি।
মাজেদুল হকের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ও সম্পদ বৃদ্ধির একটি কারণ। তাঁর দাবি, দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপিদের অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। অর্থাৎ তিন মাসে মোট ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি।
একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। মার্চ শেষে মোট আমানতের স্থিতি ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।
সূত্র: কালের কণ্ঠ