EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলার

ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম

কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ২০ বছর পূর্ণ করেছে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। দুই দশকে ইপিজেডটি থেকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্ণফুলী ইপিজেডের উদ্বোধন করেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম পণ্য রপ্তানি করে পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইপিজেডটি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি শুধু পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখান থেকে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি শুসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, একসময় চিটাগাং স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে উঠেছে এই ইপিজেড।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে লোকসানে পড়ে ১৯৯৮ সালে চিটাগাং স্টিল মিলস লে-অফ ঘোষণা করে। পরে ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, পরিত্যক্ত শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০০৪ সালে দুই ধাপে স্টিল মিলের ২২২ দশমিক ৪২ একর জমি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরনো স্থাপনা সরিয়ে সেখানে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছেন। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে শুরু হওয়া ইপিজেডটিতে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডে ২৫৮টি শিল্পপ্লট ও পাঁচটি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবন রয়েছে। সব প্লট ও ভবন বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি, তিনটি যৌথ এবং আটটি দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ইপিজেডটিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরও প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরও পড়ুন