বিশ্ববাজারে তিন মাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আকস্মিক তারল্য সহায়তার ঘোষণায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) সোনার দামে বড় উত্থান দেখা যায়।
এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সোনার দাম বাড়ার পথে রয়েছে। একই সঙ্গে দাম উঠে গেছে ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের ওপরেও, যা বাজার বিশ্লেষকদের কাছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯১ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের লেনদেনে দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬০১ দশমিক ২৯ ডলারে ওঠে, যা গত ১৫ মে’র পর সর্বোচ্চ। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪৮ ডলারে উঠেছে।
সাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, বৃহস্পতিবারের সাময়িক দরপতনের পর আবারও সোনার দাম বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাজারে প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের উচ্চমাত্রা এবং দুর্বল ডলার সোনার বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা ভেঙে ওপরে ওঠায় প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগকারীদের নতুন করে কেনাকাটাও দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে সোনার দাম গুরুত্বপূর্ণ সব মুভিং অ্যাভারেজের ওপরে অবস্থান করছে। ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫১৩ দশমিক ২৭ ডলারে রয়েছে। বাজারে প্রযুক্তিগত সংকেত অনুসরণকারী বিনিয়োগকারীরা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ মুভিং অ্যাভারেজের ওপরে দাম ওঠাকে ইতিবাচক বা বুলিশ সংকেত হিসেবে দেখেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ট্রেজারি বন্ডের বাইব্যাক আরও বাড়াতে পারে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বাইব্যাকের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয়।
তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ফেডের দুই কর্মকর্তা সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা এখন আগামী সপ্তাহে জ্যাকসন হোল থেকে ফেডের মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত নতুন সংকেতের দিকে তাকিয়ে আছেন। বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান মনে করেন, সোনার দাম ৫ হাজার ডলারের মাইলফলক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার আগে বিনিয়োগকারীদের ফেডের নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে নতুন সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির কারণে ভারতে খুচরা পর্যায়ের সোনার চাহিদা কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার চীনে সোনার চাহিদা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবার স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৮২ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৯৪ দশমিক ৭৪ ডলারে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ দশমিক ৮০ ডলারে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান এর গোল্ড প্রাইস আউটলুকে বল ২০২৬-২৭ সালের জন্য স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস বর্তমান দামের চেয়ে ওপরে এবং জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলারের দিকে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণর নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।