EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন

বিতর্কিত ধারা বাতিল, পুরোনো মালিকদের ব্যাংকে ফেরার পথ বন্ধ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

বিতর্কিত ধারা বাতিল, পুরোনো মালিকদের ব্যাংকে ফেরার পথ বন্ধ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ব্যাপক সমালোচনার মুখে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর ফলে রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের শেয়ারধারী বা মালিকদের আবার সেই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ধাপভিত্তিক পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে সরকার।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। সংসদে আইনটি পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। ওই ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এর শেয়ারধারী ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ভার গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও একই সুযোগ দিতে পারবে। এ বিধান যুক্ত হওয়ার পর বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এটি সংযোজন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে।

ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে একাধিক সংশোধনীর ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড়, ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা কোম্পানিকে অতিরিক্ত করসুবিধা এবং লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএআর) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বাজেটের সাফল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নে নিহিত। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

আরও পড়ুন