EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা সুরক্ষায় জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

সার আমদানি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পাবেন সহায়তা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা সুরক্ষায় জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
অ অ

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, মানুষের জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঘোষিত এ অর্থায়নের আওতায় দুটি পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে, যাতে ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা যায়।

মোট অর্থায়নের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্টে। এ অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং অক্টোবর ২০২৬ থেকে এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য সার আমদানিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া রয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা ক্ষুদ্র কৃষকরা উপকৃত হবেন।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সোলেমান কুলিবালি বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান উৎপাদন হয় আমন ও বোরো মৌসুমে। কৃষিখাতে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। সার সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়া কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্টের আওতায় আরও ৭১৩ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ সংকটকালে দ্রুত ব্যয় করা যাবে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনর্বাসন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতেও অর্থায়ন করা হবে। জরুরি এ অর্থায়ন আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পুরোপুরি ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় দেশ আরও সক্ষম হবে এবং মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা পাবে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই দুটি প্রকল্প খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে, ব্যবসা খাতকে সহায়তা করতে এবং ভবিষ্যতের বহিরাগত অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন