EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

কোরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়াশিল্প এখন খাদের কিনারে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের প্রান্তিক এতিম শিশু এবং কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো...

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

কোরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়াশিল্প এখন খাদের কিনারে। কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হতো, তা এখন কার্যত পঙ্গু। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের প্রান্তিক এতিম শিশু এবং কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুরবানির কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম ধসের পেছনে মূলত পাঁচটি বড় কারণ রয়েছে। এগুলো হলো— তীব্র তারল্য ও ব্যাংক ঋণ সংকট, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর (বিসিক) ব্যর্থতা, লবণ ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতা।

পর্যাপ্ত ঋণ না পাওয়ায় নগদ টাকার তীব্র সংকটে ভুগছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাখাওয়াত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের অজুহাত দেখিয়ে টাকা দেয় না। সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে অধিকাংশ ট্যানারি এমনিতেই লোকসানে চলছে। আড়তদাররা টাকা না পেলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনে না। ফলে কুরবানির চামড়ার বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

এ বছর চামড়া সংরক্ষণে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটির নিচে নেমে আসবে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

দেশের কওমি মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং এতিমখানাগুলোর বার্ষিক বাজেটের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ আসে কুরবানির চামড়া বিক্রি থেকে। এই অর্থ দিয়ে সারা বছর হাজার হাজার এতিম ও দুস্থ শিশুর তিন বেলার খাবার ও চিকিৎসার খরচ চালানো হয়। চামড়ার দাম তলানিতে নামায় অনেক মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

খিলগাঁও গোড়ান বাজারের জামেয়া ইসলামিয়া ফজলুর রহমান ভূঁইয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইনচার্জ মাওলানা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাদ্রাসার ছেলেগুলো এখন আর চামড়া সংগ্রহ করতে যেতে চায় না। অনেক এতিমখানায় চামড়া সংগ্রহই বন্ধ হয়ে গেছে। এটা মাদ্রাসা শিক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’

ঢাকা দক্ষিণখানের দারুল আবরার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, চামড়াজাত পণ্যের দাম প্রতিবছর বাড়লেও বিপরীতে কুরবানির চামড়ার দাম কমছে। তিনি বলেন, ‘এটা কী করে হয়? পৃথিবীর কোনো দেশে এটা হয় কিনা আমার জানা নেই। অবশ্যই এর পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও কারসাজি। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, কুরবানির চামড়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ এতিম ও মিসকিনদের হক। অথচ এতিমদের এই হক মাটি করে দেওয়া হলো।’

অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে কাঁচা চামড়ার দাম কম রাখার পেছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। দাম কম থাকলে চামড়া অবৈধ পথে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া খাত যাতে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, সেজন্য এই সম্ভাবনাময় খাতকে অকার্যকর রাখার আন্তর্জাতিক লবিং সক্রিয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চামড়া খাতের সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে কেউ চামড়া নিয়ে কারসাজি করতে না পারে। চামড়া পাচার রোধে বিজিবির নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন