বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৪.৬%, সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হতে পারে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ধারণা, পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি আরো বাড়িয়ে ৬.১ শতাংশে নেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’-এর জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনে মানুষের ভোগব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করলে শিল্প খাত শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে—এই আশাবাদও রয়েছে প্রতিবেদনে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, এসব কারণে সরকারি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে বর্তমান বাস্তবতার চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে এখনো মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ব্যাংকঋণের প্রবাহ কমে গেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির তুলনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভুটানে, ৭.৩ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে ভারত, সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি। শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩.৯ শতাংশ এবং নেপালে ২.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে কোনো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ হিসাবেও অর্থনীতিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ। দেশি ও আন্তর্জাতিক উভয় হিসাবেই ধীরে হলেও অর্থনীতিতে গতি ফেরার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।