দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকের ভিড়ে প্রাণবন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ
পরিবেশ সুরক্ষায় ১২ নির্দেশনা, ৪ মাস উন্মুক্ত রাখার দাবি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর থেকে ঘাটে পর্যটকবাহী জাহাজ ভিড়তেই এই দ্বীপে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপের প্রকৃতিও সেজে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যে, যা দেখতে ভিড় করছেন শত শত ভ্রমণপিপাসু।
প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এতদিন পর্যটকদের পা পড়েনি এই দ্বীপে। এখন রাতযাপনের অনুমতি থাকায়, কক্সবাজার থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে দ্বীপে পা রেখেই পর্যটকরা ক্লান্তি ভুলে ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রকৃতির মাঝে।
সেন্টমার্টিনে আসা পর্যটকরা এখানকার পরিবেশের পরিবর্তনে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। পর্যটক রেহেনা আক্তার বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপটা দেখার মতো। প্রথমবারের মতো এসে জাহাজ থেকে নেমেই সমুদ্রের জলরাশি দেখে এক কথায় অবাক হয়েছি। এতো সুন্দর সেন্টমার্টিন!’

রায়হান কাদেরী নামের আরেক পর্যটক জানান, ‘এবার সেন্টমার্টিন এসে অন্যরকম লাগছে। সমুদ্রের পানি একদম স্বচ্ছ নীল, চারপাশটা অনেক পরিষ্কার। আগের মতো এতো অপরিষ্কার নয়; যা দেখে অনেক ভালো লাগছে।’
পর্যটক রবিউল ইসলাম মনে করেন, ‘আমরা যে নীল জলরাশি খুঁজি সেন্টমার্টিন আসার পরে, সেটা এখন দেখা যাচ্ছে। এটার একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমরা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পেরেছি।’
পর্যটক আগমনের ফলে সেন্টমার্টিন বাজার এলাকায় ভ্যানচালক থেকে শুরু করে ডাব বিক্রেতা, বার্মিজ দোকানি, রেস্তোরাঁ ও হোটেল-মোটেলগুলোতে সুখের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। প্রায় ৮ বর্গ-কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে বসবাসকারী ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার জীবিকার প্রধান উৎসই হলো পর্যটন ব্যবসা।
ভ্যানচালক ছৈয়দ আলম তার স্বস্তির কথা জানিয়ে বলেন, ‘এতদিন অনেক কষ্ট পেয়েছি। এখন ঘাটে জাহাজ ভিড়তেই খুবই খুশি লাগছে। এখন আয় বাড়বে, সংসার চালাতে আর কষ্ট হবে না।’

শাহীনা রেস্তোরাঁর শ্রমিক আব্দুর রহিম বলেন, ‘অনেক দিন পর পর্যটকের পা পড়েছে দ্বীপে, খুশি না হয়ে থাকতে পারছি না। পর্যটক আসলেই আমাদের ব্যবসা হয়।’
বর্তমানে পর্যটকদের ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা এসব নির্দেশনা মানতে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতন করার কাজও করছেন।
তবে, বছরের দীর্ঘ সময় দ্বীপ বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই তারা সরকারের কাছে দু’মাসের পরিবর্তে অন্তত ৪ মাস সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইটাব) সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম রাজ বলেন, ‘পরিবেশের দোহায় দিয়ে ট্যুরিজম বন্ধ করে কোনো দিনই পরিবেশ রক্ষা হয় না। সরকারের প্রতি অনুরোধ, পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন অন্তত ৪ মাস খোলা রাখা হোক।’

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, ‘গেলো ১০ মাসে সেন্টমার্টিনের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা শুধুমাত্র ২ মাসে পুষিয়ে নেওয়া কোনোভাবে সম্ভব হবে না। আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে ৪ মাস উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি।’
পর্যটকের আগমন যেমন পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে আনে স্বস্তি। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
