আপনিও কি ‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’? বুঝবেন যেভাবে
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব কি অজান্তেই একজন অভিভাবকের কাঁধে বেশি পড়ে যাচ্ছে? একজন যখন সন্তানের স্কুল, পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়া, অসুস্থতা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের প্রায় সবকিছু সামলাচ্ছেন, অন্যজন তখন পাশে থেকেও অনেকটা দর্শকের ভূমিকায় থাকছেন। অভিভাবকত্বের এই অসম অংশগ্রহণকেই বলা হচ্ছে ‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’। সময়ের সঙ্গে যা শুধু একজনের ক্লান্তিই বাড়ায় না, প্রভাব ফেলতে পারে দাম্পত্য সম্পর্ক ও সন্তানের ওপরও।
অনেক পরিবারেই অজান্তে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়। একজন অভিভাবক সন্তানের প্রায় সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। অন্যজন পাশে থাকেন ঠিকই, কিন্তু সন্তানের দৈনন্দিন জীবন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তেমনভাবে মাথা ঘামান না। এই ধরনের অভিভাবকত্বকেই বলা হয় ‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’।
খুব সহজ করে বললে, একজন অভিভাবক ঠিক গাড়ির চালকের আসনে বসেন। তিনিই গাড়ি চালান, তিনিই পথ ঠিক করেন। আর অন্যজন পাশে বসে থাকা যাত্রীর মতো। তিনি সঙ্গে আছেন, কিন্তু গাড়ি চালানোর দায়িত্বটা নিচ্ছেন না।
কীভাবে বুঝবেন, ‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’ হয়ে উঠছেন কিনা?
এই পরিস্থিতি সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। সন্তানের স্কুল, পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়া, ঘুম, অসুস্থতা—সবকিছুর দায়িত্ব একজন নিতে শুরু করেন। কখন কী করতে হবে, সেটাও তাকেই মনে রাখতে হয়। অন্যজন হয়তো সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু নিজে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয় না।
এভাবে যিনি বেশি দায়িত্ব নিচ্ছেন, তার মধ্যে ধীরে ধীরে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। মনে হতে পারে, ‘সবকিছু আমাকেই কেন সামলাতে হবে?’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখান থেকেই আসতে পারে বিরক্তি, অভিমান বা ক্ষোভ। কথাবার্তাও ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে। একসঙ্গে থেকেও দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। এমনকি এর প্রভাব সন্তানের ওপরও পড়তে পারে। কারণ শিশুরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে কে তাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কে অসুস্থ হলে পাশে থাকছেন, আর কে ভয় পেলে জড়িয়ে ধরছেন।
‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’ থেকে সমান অভিভাবক হওয়ার উপায়
এর জন্য একদিনে সবকিছু বদলে ফেলার দরকার নেই। ছোট কোনো দায়িত্ব দিয়েই শুরু করা যায়। সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, রাতে তাকে গল্প পড়ে শোনানো, তার সঙ্গে ডিনারের পরিকল্পনা করা কিংবা পড়াশোনার সময় পাশে বসা—এমন ছোট ছোট কাজ থেকেই শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তবে শুধু দায়িত্ব নিলেই হবে না। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোও জরুরি। তার সঙ্গে খেলুন। তার কথা শুনুন। সে মন খারাপ করলে পাশে থাকুন।
প্রথম দিকে একটু অস্বস্তি হতে পারে। সন্তানও হয়তো সঙ্গে সঙ্গে নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হবে না। সঙ্গীরও পুরোনো অভ্যাস বদলাতে সময় লাগতে পারে। তবু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।