টেসলাকে হটিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা এখন বিওয়াইডি
চীনা ব্র্যান্ড মোকাবিলায় সস্তা মডেলের কৌশল
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতার সিংহাসন হারাল মার্কিন প্রতিষ্ঠান টেসলা। ২০২৫ সালে বিক্রির দৌড়ে ইলন মাস্কের টেসলাকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে চীনা অটোমোবাইল জায়ান্ট বিওয়াইডি।
২০২৫ সালের বার্ষিক বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, বিওয়াইডি গত বছর মোট ২২ লাখ ৬০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে। অন্যদিকে, টেসলা সরবরাহ করেছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম।
টানা দ্বিতীয় বছরের মতো টেসলার বিক্রি কমার পেছনে ইলন মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) টেসলা ৪ লাখ ১৮ হাজার ২২৭টি গাড়ি বিক্রি করেছে। তবে বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ৭ হাজার ৫০০ ডলারের করছাড় (ট্যাক্স ক্রেডিট) ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যাওয়াও টেসলার বিক্রি হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনা সস্তা গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে গত অক্টোবরে টেসলা তাদের জনপ্রিয় ‘মডেল ওয়াই’ ও ‘মডেল থ্রি’- এর সাশ্রয়ী বা ‘স্ট্রিপড-ডাউন’ সংস্করণ বাজারে আনে।
নতুন মডেল ওয়াইয়ের দাম ৪০ হাজার ডলারের নিচে এবং মডেল থ্রি-এর দাম ৩৭ হাজার ডলারের নিচে রাখা হয়েছে। মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতেই এই কম দামের সংস্করণগুলো আনা হয়েছে।
বিক্রি কমলেও ২০২৫ সাল শেষে টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, মাস্কের ‘রোবোট্যাক্সি’ সেবা এবং ঘর ও অফিসের কাজের জন্য তৈরি মানবাকৃতি রোবট ভবিষ্যতে কোম্পানির জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এদিকে, গত মাসে আদালত থেকে ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ ফিরে পাওয়ার পর ইলন মাস্কের সামনে আগামী ১০ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।
জানুয়ারির শেষ দিকে টেসলার চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রায় ৪০ শতাংশ কমতে পারে। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ টেসলার এই নিম্নমুখী প্রবণতা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।