৮ বিঘার বাগানে টাকা ছাড়াই ইচ্ছেমতো লিচু খাচ্ছেন সবাই
লিচু বাগানের মালিক জামাল শামীম বলেন, গ্রামের মানুষের পাশাপাশি ছোট্ট বাচ্চাদের খুশি করতেই এই উদ্যোগ। যেন বাচ্চারা আনন্দের সাথে নিজে হাতে লিচু পেড়ে খেতে পারে
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
৮ বিঘার বিশাল মাঠজুড়ে ২০০-এরও বেশি লিচু গাছ। প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে টসটসে রসালো লিচু। তবে এই বাগানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার লিচু খেতে একটি টাকাও লাগে না। যে কেউ চাইলে বাগানে ঢুকে ইচ্ছেমতো লিচু পেড়ে খেতে পারেন।
এমনই এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক লিচু বাগানের দেখা মিলেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামে। বাগানের মালিক পাবনা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম। এই যুগে যখন প্রতিটি পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য এমন বাগান উন্মুক্ত রেখে এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ইছামতি নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই চোখ জুড়ানো বাগানে কোনো সীমানা প্রাচীর, কাঁটাতারের বেড়া কিংবা জালের ব্যবহার নেই। এলাকাবাসী, হতদরিদ্র মানুষ, বন্ধু-বান্ধব ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি পাখি বা অন্য কোনো পশুপাখিও যেন নির্বিঘ্নে ফল খেতে পারে, সেজন্য বাগানটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বাগান পরিচর্যাকারীরা জানান, প্রায় দেড় যুগ আগে পৈতৃক ও নিজস্ব অর্থায়নে এই বাগানটি গড়ে তোলেন মোস্তফা জামাল শামীম। প্রতিবছর লিচু পাকলেই সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে নিজ হাতে লিচু পেড়ে খান, যা এক অভিনব বিনোদনের খোরাক জোগায়। এই বাগানের লিচু কখনোই বিক্রি করা হয় না।
বাগানটি দেখতে আসা গণমাধ্যমকর্মী ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বচক্ষে এই উদ্যোগ দেখতে এসেছি। মানুষ ইচ্ছে করলেই যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ এই বাগান।’
আলমগীর হোসেন নামে আরেক দর্শনার্থী এটিকে এই বাণিজ্যিক যুগের এক ‘মহৎ ও বিরল’ দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রাজু আহমেদ বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগের কারণে আমাদের গ্রামের অনেক দরিদ্র মানুষকে বাজার থেকে লিচু কিনে খেতে হয় না। বাগানে ঢুকতে কারও অনুমতিও লাগে না।’
লিচু বাগানের মালিক জামাল শামীম বলেন, ‘রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না এই লিচু বাগানে। বাগানে দেওয়া হয় না কোনো নেট বা বন্ধনী। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এই লিচু বাগান। গ্রামের মানুষের পাশাপাশি ছোট্ট বাচ্চাদের খুশি করতেই এই উদ্যোগ। যেন বাচ্চারা আনন্দের সাথে নিজে হাতে লিচু পেড়ে খেতে পারে। আমি সব সময় বাগানে বা গ্রামে থাকি না। কিন্তু যখন শুনি বাগানে নানা শ্রেণির মানুষ দল বেধে এসে লিচু পেড়ে খাচ্ছেন, শুনেই তৃপ্তি পাই, ভালো লাগে।’
পাবনা খামার বাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরে আলম উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দেশের আরও যারা লিচু বাগান মালিক আছেন, তারা যদি এমন উদারতা দেখান তাহলে সাধারণ মানুষ বিনা পয়সায় লিচু খেতে পারবেন। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও কেনার সামর্থ্য না থাকায় লিচু খাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।’