EN ☀️
×

Follow Us

চিত্র-বিচিত্র

অস্তিত্ব সংকটে পেঙ্গুইন, ২০৮০ সালের মধ্যে সংখ্যা হবে অর্ধেক

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক সম্রাট পেঙ্গুইন নিখোঁজ হয়েছে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

অস্তিত্ব সংকটে পেঙ্গুইন, ২০৮০ সালের মধ্যে সংখ্যা হবে অর্ধেক

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অ্যান্টার্কটিকার তুষারশুভ্র প্রান্তরে কোট-টাই পরা ভদ্রলোকের মতো হেলেদুলে চলা সেই পরিচিত দৃশ্যটি হয়তো অচিরেই চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম শিকার হয়ে এখন বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম পেঙ্গুইন প্রজাতি ‘এম্পেরর’ বা সম্রাট পেঙ্গুইন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন সম্রাট পেঙ্গুইনের ঝুঁকির মাত্রা পরিবর্তন করেছে। ইতিপূর্বে তাদের ‘প্রায় হুমকির মুখে থাকা’ প্রাণীর তালিকায় রাখা হলেও এখন তাদের সরাসরি ‘বিপন্ন’ প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্রাট পেঙ্গুইন তাদের সম্পূর্ণ জীবনচক্রের জন্য অ্যান্টার্কটিকার সামুদ্রিক বরফ ও হিমবাহের ওপর নির্ভরশীল। বরফখণ্ডের ওপরই তারা ডিম পাড়ে, প্রজনন করে এবং সমুদ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করে। তবে দ্রুত হারে বরফ গলে যাওয়ার ফলে এই প্রাণীদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।

আইইউসিএন-এর রেড লিস্ট বিশেষজ্ঞ ফিলিপ ট্রাথান এক বিবৃতিতে জানান, ‘মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সম্রাট পেঙ্গুইনদের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। যদি গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না যায়, তবে ২০৮০ সাল নাগাদ এদের সংখ্যা বর্তমানে তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসবে।’

সম্রাট পেঙ্গুইন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম হলেও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের গতির কাছে তারা হার মানছে। মা পেঙ্গুইন বরফের ওপর ডিম পাড়ার পর বাবা পেঙ্গুইন সেই ডিম পায়ের নিচে লুকিয়ে উষ্ণতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু শিশু পেঙ্গুইনগুলো সাঁতার কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ওয়াটারপ্রুফ’ পালক গজানোর আগেই বরফ ভেঙে সাগরে পড়ে মারা যাচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক সম্রাট পেঙ্গুইন নিখোঁজ হয়েছে। ফরাসি বিজ্ঞানী ক্রিস্তফ বাবোঁদ বলেন, ‘২০১৬-১৭ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকায় বরফ আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ায় এই প্রজাতির টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

বিজ্ঞানীদের মতে, সম্রাট পেঙ্গুইনের এই করুণ পরিণতি কেবল একটি প্রজাতির বিলুপ্তি নয়, বরং এটি দ্রুত বদলে যেতে থাকা পৃথিবীর জন্য এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি। এখনই কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সম্রাট পেঙ্গুইনের মতো আরও অনেক প্রাণী কেবল ইতিহাসের পাতায় বা ডাইনোসরের মতো বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন