থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে গাঁজাকে বৈধ করে ব্যাপক আলোচনায় আসে থাইল্যান্ড।
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৫, ০৪:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে আবারও গাঁজা ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশটিতে গাঁজা কেনার জন্য প্রয়োজন হবে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন।
২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে গাঁজাকে বৈধ করে ব্যাপক আলোচনায় আসে থাইল্যান্ড। এতে দেশটির কৃষি ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হলেও, পরে শিশুদের মধ্যে আসক্তি এবং অনিয়ন্ত্রিত বিক্রয় ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দেশটি।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাঁজা নিয়ন্ত্রণে আবারও কঠোর হতে চলেছে থাই সরকার। ২৪ জুন (মঙ্গলবার) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুয়েতিন এক নির্দেশনায় প্রেসক্রিপশন ছাড়া সব ধরনের গাঁজা বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। একই সঙ্গে গাঁজার ফুলকে ‘নিয়ন্ত্রিত ভেষজ’ হিসেবে পুনরায় শ্রেণিকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।
পরদিন (২৫ জুন) থাইল্যান্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মহাসচিব ফানুরাত লুকবুন জানান, নতুন এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টি গাঁজাকে আবারও নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অঙ্গীকার করলেও, জোটসঙ্গী ভুমজাইথাই পার্টির বিরোধিতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এই ভুমজাইথাই পার্টিই দেশটিতে গাঁজা বৈধ করেছিল। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ভুমজাইথাই পার্টি জোট ছাড়তে চেয়েছিল। এর ফলে গাঁজার ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের পথ সহজ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাঁজার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক জানিয়েছেন, তিনি চান গাঁজাকে আবারও মাদকদ্রব্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
সরকারি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাঁজা বৈধ হওয়ার পর থাইল্যান্ড থেকে বিদেশে, বিশেষ করে পর্যটকদের মাধ্যমে এর পাচার বেড়েছে। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের গবেষণায় উঠে এসেছে, বৈধকরণের পর দেশে গাঁজার আসক্তির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারি মুখপাত্র জিরায়ু হউংসাব বলেন, "সারা দেশে হাজার হাজার দোকানে গাঁজা বিক্রি হচ্ছে, যা শিশু ও সাধারণ মানুষের কাছে এটিকে সহজলভ্য করে তুলেছে। অথচ সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদকবিরোধী অবস্থানকে শক্ত করা।"
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাঁজা বৈধকরণের সমর্থকেরা। তাদের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আগামী মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এবং গাঁজা ব্যবহারে নতুন করে অপরাধের তকমা বসানো হলে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
সূত্র: ইউএনবি