EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

৩০তম ইউএস ট্রেড শো শুরু

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ট্রেড শোর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। ইউএস ট্রেড শোর মতো বড় আয়োজন দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘‘বাংলাদেশের টেকসই ও সবুজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো বিশ্বমানের পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অংশীদার হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন ক্রিনেস্টনসেন।

অ্যামচেম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘‘তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের সংযোগ তৈরিতে সেতু হিসেবে কাজ করছে। এই ৩০তম আয়োজন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’’

ট্রেড শোর ৩০তম এই মাইলফলক আসরে বিভিন্ন খাতের বিশ্বমানের মার্কিন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছে।

প্রদর্শনী পরিদর্শনের পাশাপাশি এই মেলায় অর্থনীতি ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- জেনারেল জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, নারী নেতৃত্ব, বিদেশে বিনিয়োগের রূপরেখা, পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি।

দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে।

আরও পড়ুন