বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: অর্থ উপদেষ্টা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে যুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা উচিত, যা দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ায়, প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়তা করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির বর্তমান প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উৎপাদনের স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এ উদ্যোগ জনবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান উপদেষ্টা। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের কারণে তৈরি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের ৩০০ জনের বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি নারী। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ সময় তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স চত্বরে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।