বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, এসব বাধা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে শুল্কপ্রক্রিয়া সহজ করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্নীতি হ্রাস, আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিভিন্ন অশুল্ক বাধার বিষয়েও কথা বলেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার মতো কিছু বিধিনিষেধ দূর করা গেলে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মডুলার পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আধুনিক এভিয়েশন ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা গেলে চট্টগ্রাম এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মোট ব্যয়ের বড় অংশ লজিস্টিকস খাতে চলে যায়। এ খাতে ব্যয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। তা কমিয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে আনা সম্ভব হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এ জন্য বাংলাদেশের মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
আমিরুল হক আরও বলেন, চট্টগ্রামে তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং একটি বৃহৎ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এসব অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা করা গেলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ সালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরআলী হোসেনসহ চেম্বারের বর্তমান ও সাবেক নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চেম্বারের সহসভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালকবৃন্দ এবং মার্কিন দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক অ্যাটাশে লীনা খান, অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জন ব্রান্সডেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।