EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

টোকিও থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা

‘জাপান সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি’

ডেইলি সান রিপোর্ট, টোকিও

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ এএম

‘জাপান সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি’

ছবি: পিএমও

অ অ

জাপানে নিজের চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের বৃহৎ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপরও আলোকপাত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের গভীর সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন আমার বাবা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে আমার মরহুমা মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর জাপান সফর ও নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।’’

তিনি জানান, এবারের শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশই গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এই অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই শীর্ষ বৈঠকের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি বিশেষ ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপনে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

শীর্ষ বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে ‘যৌথ সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত কাঠামোয় উন্নীত করার অভিন্ন অঙ্গীকার।

এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন করা হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে টোকিওর আরও সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর একটি শক্তিশালী ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে জাপান সরকার ও সে দেশের জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তা ও আস্থার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো— কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (কানতেই নামে পরিচিত) অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতা জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

তাঁরা আলোচনার ফলাফল নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

আরও পড়ুন