কাঠমাণ্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা, লালনগীতি, কবিতা আবৃত্তি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মরমি এই সাধকের দর্শন এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, নেপালের সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনিধি, যুবনেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ঢাকায় দায়িত্ব পালনকারী নেপালের সাবেক কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লালনের দর্শনকে বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, লালনের গান ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা পেরিয়ে সামাজিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবতাবাদী বিশ্বাসকে মহিমান্বিত করেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। লালনের গানের সর্বজনীন আবেদনের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো বাউল ঐতিহ্যকে মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চর্চা থেকে শক্তি অর্জন করে। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন ও লালনের কবিতা আবৃত্তি করেন। এ ছাড়া লালনের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। শেষে অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।