EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে সরকার ও জাতিসংঘের ৫ সংস্থার যৌথ উদ্যোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে সরকার ও জাতিসংঘের ৫ সংস্থার যৌথ উদ্যোগ
অ অ

দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের নতুন করে জীবন গড়তে সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ৩০ মাসের একটি যৌথ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের ৫ সংস্থা। কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশু এবং সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসীদের।

কর্মসূচিতে কাজ করবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো হলো— আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন ওমেন)। প্রত্যাগত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের (মাইগ্রেশন এমপিটিএফ) অর্থায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যাগত অভিবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা জোরদার করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দেবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোঃ শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ।

অনুষ্ঠানে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ. কে. এম. সোহেল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সাইফুল হক চৌধুরী, জাতিসংঘ উইংয়ের যুগ্মসচিব ড. কাজী শাহজাহানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থা ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, অভিবাসন কোনো একমুখী প্রক্রিয়া নয়। তাই দেশে ফেরা অভিবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। টেকসই পুনঃএকত্রীকরণের জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও কাঠামোগত পর্যায়ে সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো তাদের সম্মিলিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে একটি সমন্বিত ও অভিবাসীকেন্দ্রিক পুনঃএকত্রীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে।

ইআরডির সচিব শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, দেশে প্রত্যাগত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের এমন সেবা, সুযোগ ও সহায়তা প্রয়োজন, যা তাদের নতুন করে জীবন গড়তে এবং নিজ নিজ সমাজে অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সহায়তা আরও শক্তিশালী করতে অংশীদারত্বটি ভূমিকা রাখবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি নারী।

দেশে ফেরার পর তাদের অনেকেই চাকরি বা আয়ের সুযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া এবং বিদেশে থাকার সময়ের নানা মানসিক চাপ মোকাবিলায় সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে আকস্মিকভাবে বা কোনো সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের এসব সমস্যা বেশি হয়।

কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জেন্ডার-সংবেদনশীল নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা প্রত্যাগত অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করা হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ব্যক্তিভিত্তিক পুনঃএকত্রীকরণ পরিকল্পনা তৈরি, সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি মোকাবিলার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

জেলা পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানোর কিছু উদ্যোগও পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া হবে।

কর্মসূচিটি প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তির (জিসিএম) ২১ নম্বর উদ্দেশ্য—মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন ও টেকসই পুনঃএকত্রীকরণে অবদান রাখবে।

এ কর্মসূচি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ২০৩০ এজেন্ডার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে জেন্ডার সমতা ও নারী-শিশুর ক্ষমতায়ন (লক্ষ্য-৫), উৎপাদনশীল কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (লক্ষ্য-৮) এবং বৈষম্য কমানোর (লক্ষ্য-১০) লক্ষ্য অর্জনে এটি ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন