বাংলাদেশে বিনিয়োগে ওয়াল স্ট্রিটকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, নিউইয়র্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জেপি মর্গ্যান চেজ আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে বিশ্বের ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বকে স্বাগত জানায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। এ পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বাড়ানো, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতের পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
তিনি আরও বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় জানান।