EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দ. কোরিয়ার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দ. কোরিয়ার
অ অ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

চলতি বছরের জুলাই মাসে রিপাবলিক অব কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তার ঘোষণা দেয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএফপি থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এ অর্থায়ন এসেছে, যখন কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি এবং মানবিক তহবিল সংকটের চাপও ক্রমেই বাড়ছে।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা, ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য পুষ্টি সহায়তা এবং শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে অধ্যয়নরত ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি।

এই অর্থায়ন ‘রিচ’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে। কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মানবিক উদ্যোগটি ডব্লিউএফপির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।

ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যপণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীরা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পান। অন্যদিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড খাবার দেওয়া হয়, যা তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষায় সম্পৃক্ততাও বাড়ায়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রিপাবলিক অব কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ডব্লিউএফপির পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে জীবন রক্ষা, মর্যাদা বজায় রাখা এবং শিশু ও পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকটময় মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কোরিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।”

দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপির অংশীদারিত্বের ইতিহাস ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো। ১৯৬৪ সাল থেকে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। সর্বশেষ ৫০ লাখ ডলারের অনুদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচারভিত্তিক কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট নগদ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার।

মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি সহায়তার তহবিলে চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর খাদ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সমর্থন অপরিহার্য।

আরও পড়ুন