বাংলাদেশে বিনিয়োগে লিথুয়ানিয়াকে আহ্বান, ইইউ বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য লিথুয়ানিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিসিয়েনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, পচনশীল নয় এমন পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাব, প্লাস্টিক পণ্য এবং জাহাজ আমদানির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাক, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি, ফিনটেক, ই-গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-পরিবহন, পরিবহন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বিনিময়, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল বিনিময়, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, নিবন্ধনের প্রয়োজন রয়েছে—এমন বাংলাদেশি পণ্য, বিশেষ করে ওষুধ ও কিছু সেবার জন্য লিথুয়ানিয়া বৃহত্তর ইইউ বাজারে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হতে পারে।
এ ছাড়া ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের কার্যকর ভূমিকা, বিদ্যমান বাণিজ্যিক কাঠামো মেনে চলা, বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন এবং বাল্টিক অঞ্চলকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
